তাফসীর পাঠাগার

তাফসীর আহসানুল বায়ান

আয়াত ধরে অথবা তাফসীর গ্রন্থ অনুযায়ী পড়ুন।

প্রকাশক
Bayaan Foundation
সংস্করণ
spa5k/tafsir_api v1.2.1
সূরা ১:১অনন্ত করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে (আরম্ভ করছি)। 'বিসমিল্লাহ'র পূর্বে 'আক্বরাউ' 'আবদাউ' অথবা 'আতলু' ফে'ল (ক্রিয়া) উহ্য আছে। অর্থাৎ, আল্লাহর নাম নিয়ে পড়ছি অথবা শুরু করছি কিংবা তেলাঅত আরম্ভ করছি। প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরম্ভ করার পূর্বেসূরা ১:২সমস্ত প্রশংসা[১] সারা জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।[২] [১] الحَمد এর মধ্যে যে ال রয়েছে, তা استغراق (সমূদয়) অথবা اختصاص (নির্দিষ্টীকরণ)এর অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই বা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট; কেননা প্রশংসার প্রকসূরা ১:৩যিনি অনন্ত করুণাময়, পরম দয়ালু। رَحما শব্দটি فَعلان এর ওজনে। আর رَحِيم শব্দটি فَعِيل এর ওজনে। দু'টোই মুবালাগার স্বীগা (অতিরিক্ততাবোধক বাচ্য)। যার মধ্যে আধিক্য ও স্থায়িত্বের অর্থ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, মহান আল্লাহ অতীব দয়াময় এবং তাঁর এ গুণ অন্যাসূরা ১:৪(যিনি) বিচার দিনের মালিক।[১][১] যদিও দুনিয়াতে কর্মের প্রতিদান দেওয়ার নীতি কোন না কোনভাবে চালু আছে, তবুও এর পূর্ণ বিকাশ ঘটবে আখেরাতে। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেককে তার ভাল ও মন্দ কর্ম অনুযায়ী পরিপূর্ণ প্রতিদান শান্তি ও শাস্তি প্রদান করবেন। অনুরূপ সূরা ১:৫আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই। ইবাদতের অর্থ হল, কারো সন্তুষ্টি লাভের জন্য অত্যধিক কাকুতি-মিনতি এবং পূর্ণ নম্রতা প্রকাশ করা। আর ইবনে কাসীর (রঃ) এর উক্তি অনুযায়ী 'শরীয়তে পূর্ণ ভালবাসা, বিনয় এবং ভয়-ভীতির সমষ্টির নাম হসূরা ১:৬আমাদেরকে সরল পথ দেখাও; اهدِنَا (হিদায়াত) শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহার হয়। যেমন, পথের দিক নির্দেশ করা, পথে পরিচালনা করা এবং গন্তব্যস্থানে পৌঁছিয়ে দেওয়া। আরবীতে এটাকে 'ইরশাদ', 'তাওফীক্ব', 'ইলহাম' এবং 'দালালাহ' ইত্যাদি শব্দে আখ্যায়িত করা হয়। অসূরা ১:৭তাদের পথ -- যাদেরকে তুমি নিয়ামত দান করেছ;[১] তাদের পথ -- যারা ক্রোধভাজন (ইয়াহুদী) নয় এবং যারা পথভ্রষ্টও (খ্রিষ্টান) নয়। [২] (আমীন) [১] এ হল 'স্বিরাত্বে মুস্তাক্বীম' তথা সরল পথের ব্যাখ্যা। অর্থাৎ, সেই সরল পথ হল ঐ পথ, যে পথে চলেছেন এমন লোকেরসূরা ২:১আলিফ লা-ম মী-ম। এগুলোকে 'হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআত' (ছিন্ন অক্ষরমালা বা বিচ্ছিন্ন বর্ণমালা) বলা হয়। অর্থাৎ, একটি একটি ক'রে পঠনীয় অক্ষর। এগুলোর অর্থের ব্যাপারে কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা নেই। আল্লাহই এর অর্থ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত। তবে নবী করীম (সসূরা ২:২এ গ্রন্থ; (কুরআন) এতে কোন সন্দেহ নেই, [১] সাবধানীদের জন্য এ (গ্রন্থ) পথ-নির্দেশক।[২] [১] এ কিতাবের অবতরণ যে আল্লাহর নিকট থেকে এ ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, "এ কিতাবের অবতরণ বিশ্বপালনকর্তার নিকট থেকে এতে কোন সন্দসূরা ২:৩যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, [১] যথাযথভাবে নামায পড়ে[২] ও তাদেরকে যা দান করেছি তা হতে ব্যয় করে। [৩] [১] গায়বী, অদৃশ্য তথা অদেখা বিষয়সমূহ হল এমন সব জিনিস যার উপলব্ধি জ্ঞান ও ইন্দ্রিয় দ্বারা সম্ভব নয়। যেমন মহান আল্লাহর সত্তা, তাঁর অহী (প্রত্যাদসূরা ২:৪এবং তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে যারা বিশ্বাস করে[১] ও পরলোকে যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী। [১] 'পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে বিশ্বাস করা'র অর্থ হল এই যে, যে গ্রন্থসমূহ পূর্ববর্তী নবীগণের উপর অবতীরসূরা ২:৫তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। এখানে সেই ঈমানদার বা বিশ্বাসীদের পরিণামের কথা বলা হয়েছে, যারা ঈমান আনার পর আল্লাহভীরু ও আমল করা সহ সঠিক আক্বীদার উপর কায়েম থাকার প্রতি যত্ন নেয়; কেবল মৌখিক ঈমান প্রকাশকে যথেষ্ট সূরা ২:৬যারা অবিশ্বাস করেছে তুমি তাদেরকে সতর্ক কর বা না কর, তাদের পক্ষে উভয়ই সমান; তারা বিশ্বাস করবে না। নবী করীম (সাঃ)-এর বড়ই আশা ছিল যে, সবাই মুসলিম হয়ে যাক এবং সেই অনুপাতে তিনি প্রয়াসও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মহান আল্লাহ বললেন, ঈমান তাদের ভাগ্সূরা ২:৭আল্লাহ তাদের হৃদয় ও কানে মোহর মেরে দিয়েছেন, তাদের চোখের উপর আবরণ রয়েছে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি। এখানে তাদের ঈমান না আনার কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু অব্যাহতভাবে কুফরী ও পাপের কাজ সম্পাদন করার কারণে তাদের অন্তঃকরণ থেকে সত্য সূরা ২:৮মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী’, কিন্তু তারা বিশ্বাসী নয়। এখান থেকে তৃতীয় দল মুনাফিক্বদের কথা আলোচনা আরম্ভ হচ্ছে। তাদের অন্তঃকরণ তো ঈমান থেকে বঞ্চিত ছিল, কিন্তু তারা ঈমানদারদেরকে প্রতারিত করার জন্য মৌখসূরা ২:৯আল্লাহ এবং বিশ্বাসীগণকে তারা প্রতারিত করতে চায়, অথচ তারা যে নিজেদের ভিন্ন কাউকেও প্রতারিত করে না, এটা তারা অনুভব করতে পারে না।সূরা ২:১০তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বৃদ্ধি করেছেন[১] ও তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যাচারী। [১] 'ব্যাধি' বলতে এখানে কুফরী ও নিফাক্বের (হার্দিক) ব্যাধিকে বুঝানো হয়েছে। এই ব্যাধি যদি সারানোর চিন্তা না করা সূরা ২:১১তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না’, তারা বলে, ‘আমরা তো শান্তি স্থাপনকারীই।’সূরা ২:১২সাবধান! এরাই অশান্তি সৃষ্টিকারী, (১) কিন্তু এরা তা অনুভব করতে পারে না। (১) 'ফাসাদ' (অশান্তি, হাঙ্গামা, সন্ত্রাস) হল 'সালাহ' (শান্তি বা সংস্কার)-এর বিপরীত। কুফরী ও পাপাচারের কারণে যমীনে ফ্যাসাদ ও অশান্তি সৃষ্টি হয়। আর আল্লাহর আনুগত্যে নিরাপসূরা ২:১৩যখন তাদের বলা হয়, ‘অপরাপর লোকদের মত তোমারাও বিশ্বাস কর’, তারা বলে, ‘নির্বোধেরা যেরূপ বিশ্বাস করেছে আমরাও কি সেরূপ বিশ্বাস করব?’(১) সাবধান! এরাই নির্বোধ, কিন্তু এরা জানে না। (২) (১) ঐ মুনাফিক্বরা সেই সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-দেরকে অজ্ঞ-মুর্খ বা