তাফসীর পাঠাগার
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
আয়াত ধরে অথবা তাফসীর গ্রন্থ অনুযায়ী পড়ুন।
সূরা ১:১১. আল্লাহর নামে কুরআন পাঠ শুরু করছি। তাঁরই সাহায্য কামনা করে ও তাঁরই নামের বরকত নিয়ে। বিসমিল্লাহর মধ্যে আল্লাহর তিনটি সুন্দরতম নাম রয়েছে: ক. “আল্লাহ” তথা সত্য মা’বূদ। এটি হলো আল্লাহ তা‘আলার সবিশেষ নাম। যা দিয়ে আল্লাহ ভিন্ন অন্য কারো নাম রাখসূরা ১:২২. সকল প্রকারের প্রশংসা তথা সকল মহান ও পরিপূর্ণ গুণাবলী শুধুমাত্র তাঁরই; অন্য কারো নয়। কারণ, তিনিই প্রত্যেক জিনিসের প্রভু, ¯্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক বা পরিকল্পনাকারী। “আ-লামীন” শব্দটি আ-লাম শব্দের বহু বচন। তা হলো আল্লাহ ছাড়া সব কিছু।সূরা ১:৩৩. পূর্বের আয়াতে আল্লাহর প্রশংসার পর এখানে তাঁর কিছু স্তুতি বর্ণনা করা হচ্ছে। তিনি রহমান তথা অসীম দয়ালু এবং তিনি রহীম তথা পরম করুণাময় ও অতিশয় মেহেরবান।সূরা ১:৪৪. এখানে আল্লাহর মহত্ত¡ বর্ণনা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তিনিই হলেন কিয়ামত দিবসের সব কিছুর মালিক। সেদিন কেউ কারো সামান্য উপকার বা অপকার করতে পারবে না। يَوْمُ الدِّيْنِ “ইয়াওমিদ্দীন” মানে হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান দিবস।সূরা ১:৫৫. হে আল্লাহ! আমরা কেবল আপনার জন্যই যাবতীয় ইবাদত ও আনুগত্য করি। আপনার সাথে আর কাউকে শরীক করি না। আমাদের সকল ব্যাপারে কেবল আপনারই সাহায্য কামনা করি। আপনার হাতেই সকল কল্যাণ। আপনি ছাড়া আমাদের আর কোন সাহায্যকারী নেই।সূরা ১:৬৬. আপনি আমাদেরকে সরল পথ দেখান। এর উপর পরিচালিত করুন। অটল রাখুন। আরো হিদায়েত বাড়িয়ে দিন। الصِّرَاطُ الْـمُسْتَقِيْمُ “আস-সিরাতুল-মুস্তাকীম” মানে এমন সুস্পষ্ট পথ যাতে কোন ধরনের বক্রতা নেই। সেটি হলো সেই ইসলাম যা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মসূরা ১:৭৭. আপনার সে বান্দাদের পথ যাদেরকে আপনি হিদায়েতের মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রদান করেছেন। যেমন: নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককারগণ। কতোই না ধন্য ও পুণ্যবান সাথী তাঁরা। ওদের পথ নয়; যাদের উপর আপনি গোসসা হয়েছেন। যারা সত্য জেনেও তা অনুসরণ করেনি। যেমন: ইহূদিরা।সূরা ২:১১. (الـــم) এ জাতীয় অক্ষরগুলোর মাধ্যমে কুরআনের কিছু কিছু সূরা শুরু করা হয়েছে। এগুলো এমন কিছু বর্ণ যেগুলোকে (أ، ب، ت) এর মতো পৃথক পৃথকভাবে উচ্চারণ করতে হয়। আসলে এ সবের কোন অর্থ হয় না। তবুও এগুলোর কিছু রহস্য এবং মর্ম তো অবশ্যই রয়েছে। কারণ, কুসূরা ২:২২. এটি হলো এমন এক মহান কুরআন যাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। না তার নাযিল হওয়ার দিক থেকে, না তার শব্দ ও অর্থের দিক থেকে। অতএব, এটি আল্লাহর বাণী। যা মুত্তাকীদেরকে এমন এক পথের সন্ধান দেয় যা সরাসরি তাঁর নিকটই তাদেরকে পৌঁছিয়ে দেয়।সূরা ২:৩৩. মুত্তাকী হচ্ছে ওরা যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে। আর তা হলো প্রত্যেক এমন জিনিস যে ব্যাপারে আল্লাহ কিংবা তাঁর রাসূল সংবাদ দিয়েছেন। কিন্তু মানুষের বাহ্যেন্দ্রীয় দিয়ে তা অনুধাবন করা যায় না। উপরন্তু তা থাকে মানুষের চোখের আড়ালে। যেমন: শেষ দিবস।সূরা ২:৪৪. যারা কোন ধরনের তারতম্য না করে হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর অবতীর্ণ ওহীতে ঈমান আনে। অনুরূপভাবে আপনার পূর্বের সকল নবীর উপর অবতীর্ণ কিতাব এবং সহীফাতেও। যারা আখিরাতের উপর দৃঢ় ঈমান রাখে এবং তাতে যে সাওয়াব ও আযাব হবে তার উপরও ঈমান রাখে।সূরা ২:৫৫. উক্ত গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিরাই হিদায়েতের পথে সুপ্রতিষ্ঠিত। আর তারাই দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে তাদের কাক্সিক্ষত বিষয় তথা জান্নাত পেয়ে এবং অনাকাক্সিক্ষত বিষয় তথা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে সফল হবে।সূরা ২:৬৬. যারা কাফির তারা সর্বদা ভ্রষ্টতা ও হঠকারিতারই উপর অবিচল। সুতরাং তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা, না করা উভয়ই সমান।সূরা ২:৭৭. কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং বাতিলসহ তাকে তালাবদ্ধ করেছেন। এমনকি তিনি তাদের শ্রবণশক্তিতেও মোহর মেরে দিয়েছেন। ফলে তারা গ্রহণ ও আনুগত্যের নিয়তে কোন সত্য কথা শুনে না। তেমনিভাবে তিনি তাদের দৃষ্টিশক্তির উপরও পর্দা টেসূরা ২:৮৮. কিছু মানুষ এমন রয়েছে যে, তারা বলে: “আমরা মু’মিন”। বস্তুতঃ তারা এ কথাটি তাদের জীবন ও সম্পদগুলো রক্ষার জন্য বলে বেড়ায়। এটা তাদের মুখের কথা; অন্তরের নয়। আসলে তারা মনেপ্রাণেই কাফির।সূরা ২:৯৯. তারা ঈমানকে প্রকাশ করে ও কুফরিকে লুকিয়ে রেখে আল্লাহ ও মু’মিনদেরকে ধোঁকা দিতে চায়। মূলতঃ তারা নিজেরা নিজেদেরকেই ধোঁকা দিচ্ছে। অথচ তারা তা বুঝতে পারছে না। আল্লাহ তা‘আলা তাদের গোপন ও গোপনতর সবই জানেন। উপরন্তু তিনি মু’মিনদেরকে তাদের অবস্থাসূরা ২:১০১০. তাদের অন্তরে সন্দেহ বাসা বেঁধেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দেন। কারণ, প্রতিদান সাধারণত যে কারো আমল অনুযায়ীই হয়ে থাকে। তাদের জন্য জাহান্নামের তলদেশে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। কারণ, তারা আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের সাথসূরা ২:১১১১. তাদেরকে যখন বলা হয়: কুফরি ও গুনাহর মাধ্যমে আল্লাহর জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না তখন তারা তা অস্বীকার করে। উপরন্তু তারা উল্টো ধারণা করে যে, তারাই সমাজ সংস্কারক ও সৎপরায়ণ ব্যক্তি।সূরা ২:১২১২. বস্তুতঃ তারাই ফাসাদ সৃষ্টিকারী। অথচ তারা তা বুঝে না। তারা এটাও বুঝে না যে, তাদের কর্মকাÐই মূলতঃ ফাসাদ।সূরা ২:১৩১৩. তাদেরকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবীদের মতো ঈমান আনতে আদেশ করা হলে তারা ঠাট্টাচ্ছলে বলে: আমরা কি বোকাদের মতো ঈমান আনবো?! বস্তুতঃ তারাই বোকা। অথচ তারা সেটা উপলব্ধি করতে পারছে না।