Tafsir for this Ayah

Surah 10 : Ayah 22

Surah 10 : Ayah 22

هُوَ ٱلَّذِى يُسَيِّرُكُمْ فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ ۖ حَتَّىٰٓ إِذَا كُنتُمْ فِى ٱلْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِم بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ وَفَرِحُوا۟ بِهَا جَآءَتْهَا رِيحٌ عَاصِفٌ وَجَآءَهُمُ ٱلْمَوْجُ مِن كُلِّ مَكَانٍ وَظَنُّوٓا۟ أَنَّهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ ۙ دَعَوُا۟ ٱللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ لَئِنْ أَنجَيْتَنَا مِنْ هَـٰذِهِۦ لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلشَّـٰكِرِينَ

It is He Who enables you to travel through the land and sea, until when you are in the ships and they sail with those on board and rejoicing in a favorable wind, then suddenly a stormy wind comes, with waves crashing into them on all sides, and they feel that there is no escape. Then they cry out to Allah[24] with sincere devotion to Him, “If You save us from this, we will surely be among those who are grateful.”

No Tafsir is available in the selected language for this Ayah. Showing an available text.

তাফসীর ইবনে কাসীর

২১-২৩ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন-বিপদ আপদের স্বাদ গ্রহণ করার পর মানুষ যখন আমার রহমত প্রাপ্ত হয়, যেমন দারিদ্রের পরে স্বচ্ছলতা, দুর্ভিক্ষের পরে উত্তম উৎপাদন, মুষলধারে বৃষ্টি ইত্যাদি, তখন সে হাসি-তামাশা করতে শুরু করে এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর যখন মানুষকে বিপদ আপদে ঘিরে ফেলে তখন সে উঠতে, বসতে, শুইতে, জাগতে সর্বাবস্থাতেই প্রার্থনায় লেগে পড়ে। সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা ফজরের সালাত পড়ান। বর্ষার রাত্রি ছিল। তিনি বললেনঃ “আজকে রাত্রে আল্লাহ তা'আলা কি বলেছেন তা তোমরা জান কি?" সাহাবীগণ উত্তরে বললেনঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই (সঃ) খুব ভাল জানেন।

” তখন তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “আজ আমার মুমিন বান্দাও সকাল করেছে এবং কাফির বান্দাও সকাল করেছে (অর্থাৎ সবাই সকালে উঠেছে)। কিন্তু যে বান্দা বলেছে যে, এই বৃষ্টির কারণ হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহ ও করুণা, সে আমার উপর বিশ্বাস স্থাপনকারী এবং তারকার প্রভাবকে অস্বীকারকারী। পক্ষান্তরে যে বান্দা এই বিশ্বাস রাখে যে, এই বৃষ্টির কারণ হচ্ছে নক্ষত্রের প্রভাব, সে আমাকে অস্বীকারকারী এবং নক্ষত্রের উপর বিশ্বাস স্থাপনকারী।” আল্লাহপাকের উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ হে রাসূল (সঃ)! তুমি এই। কাফিরদেরকে বলে দাও আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলার কর্মকৌশল বড়ই কার্যকরী হয়ে থাকে।

হে পাপীদের দল! তোমরা কি ধারণা করছো যে, তোমাদেরকে তোমাদের কুফরীর কারণে কোন শাস্তি দেয়া হবে না? প্রকৃতপক্ষে তোমাদেরকে ঢিল দিয়ে রাখা হয়েছে। অতঃপর যখন তোমাদের উদাসীনতা শেষ সীমায় পৌছে যাবে তখন আকস্মিকভাবে তোমাদেরকে পাকড়াও করা হবে।আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার ফেরেশতারা তাদের কাজ কর্ম লিখতে থাকে। অতঃপর তারা তা আলেমুল গায়েব আল্লাহর নিকট পেশ করে তাকে। তারপর তিনি প্রত্যেক বড় ও ছোট পাপের শাস্তি প্রদান করেন।এরপর মহান আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তোমাদের জন্যে স্থলভাগ ও জলভাগের ভ্রমণ সহজ করে দিয়েছেন এবং পানির মধ্যেও তিনি তোমাদেরকে তার আশ্রয় ও হিফাজতে নিয়ে নিয়েছেন।

যখন তোমরা নৌকায় আরোহণ কর এবং বাতাস নৌকা চালাতে শুরু করে, তখন তোমরা বাতাসের নিম্নগতি ও দ্রুত চালিত হওয়ার কারণে খুবই খুশী হয়ে থাকো। হঠাৎ তোমাদের উপর এক প্রচণ্ড ও প্রতিকূল বাতাস এসে পড়ে এবং প্রত্যেক দিক থেকে তোমাদের উপর তরঙ্গমালা ধেয়ে আসে। ঐ সময় তোমাদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যে, তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় তোমরা খাটি বিশ্বাসের সাথে একমাত্র আল্লাহকেই ডাকতে থাকো। ঐ সময় না তোমাদের কোন প্রতিমার কথা স্মরণ হয়, না স্মরণ হয় লাত, হুবল ইত্যাদি কোন মূর্তির কথা। বরং তখন শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলাকেই সম্বোধন করে থাকো। অতঃপর মহান আল্লাহ যখন তোমাদেরকে নিরাপদে সমুদ্রের তীরে পৌছিয়ে দেন তখন পুনরায় তোমরা তার থেকে বিমুখ হয়ে যাও।

সত্যি, মানুষ কতই না অকৃতজ্ঞ!এখানে আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা বড়ই আন্তরিকতার সাথে আল্লাহ তা'আলাকে ডেকে বলে- হে আল্লাহ! যদি আপনি আমাদেরকে এই বিপদ হতে রক্ষা করেন তবে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞ হয়ে যাবো। অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন তখন তারা দেশে অন্যায় ও অবিচার করতে শুরু করে দেয়। দেখে মনে হয় যেন তারা কখনও বিপদে পড়েইনি। ইরশাদ হচ্ছে ..... (আরবী) অর্থাৎ “হে লোক। সকল! জেনে রেখো যে, তোমাদের বিদ্রোহাচরণ তোমাদেরই প্রাণের জন্যে বিপদের কারণ হবে, এতে অন্য কারো ক্ষতি হবে না। যেমন হাদীসে এসেছেঃ “(আল্লাহর বিরুদ্ধে) বিদ্রোহ ঘোষণা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকরণ, এ দুটো এমনই পাপ যে, এ কারণে পরকালে শাস্তি হবেই, এমনকি দুনিয়াতেও সত্বর এর শাস্তি হয়ে যাবে।

” আল্লাহ পাকের উক্তিঃ ... (আরবী) অর্থাৎ “এই পার্থিব জগতে তোমরা কিছুকাল সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করবে বটে, কিন্তু এর পরেই তোমাদেরকে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে। (আরবী) অর্থাৎ “যখন তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে তখন আমি তোমাদেরকে তোমাদের সমস্ত আমল সম্পর্কে অবহিত করবো এবং ওগুলোর পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে।” যে ভাল প্রতিদান পাবে সে তত মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। আর যে শাস্তি পাবে সে নিজের নফসের উপর ভৎসনা করবে।

Tafsir in other languages · 7