Tafsir for this Ayah

Surah 18 : Ayah 82

Surah 18 : Ayah 82

وَأَمَّا ٱلْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَـٰمَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِى ٱلْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُۥ كَنزٌ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَـٰلِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَن يَبْلُغَآ أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنزَهُمَا رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ ۚ وَمَا فَعَلْتُهُۥ عَنْ أَمْرِى ۚ ذَٰلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِع عَّلَيْهِ صَبْرًا

As for the wall, it belonged to two orphan boys in the city, and there was a treasure under it that belonged to them. Their father was a righteous man, so your Lord willed that they should reach their maturity and retrieve their treasure[39], as a mercy from your Lord; I did not do it of my own accord. This is the interpretation of that which you could not bear with patience.”

No Tafsir is available in the selected language for this Ayah. Showing an available text.

তাফসীর ইবনে কাসীর

এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, বড় শহরের উপরও গ্রামের প্রয়োগ হয়ে থাকে। কেননা, পূর্বে মহান আল্লাহ। বলেছেন। অর্থাৎ “যখন তারা এক গ্রামের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছলো।” আর এখানে বা ‘শহর’ বলেছেন। অনুরূপভাবে মক্কা শরীফকেই “গ্রাম’ বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “বহু এমন গ্রাম ছিল যা তোমার ঐ গ্রাম অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী ছিল যেখান থেকে তোমাকে বের করে দিয়েছে।” (৪৭:১৩) অন্য জায়গায় মক্কা ও তায়েফ উভয় শহরকেই গ্রাম বলা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “কেন এই কুরআন দুই গ্রামের একজন বড় লোকের উপর অবতীর্ণ করা হয় নাই?” (৪৩:৩১)(আরবী) এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেনঃ এই দেয়ালটিকে ঠিক করে দেয়ার মধ্যে যৌক্তিকতা এই ছিল যে, এটা ছিল ঐ শহরের দুটি পিতৃহীন বালকের অধিকারভুক্ত।

ওর নীচে তাদের মাল প্রোথিত ছিল। সঠিক তাফসীর তো এটাই। তবে এটাও বর্ণিত আছে যে, ওটা ছিল জ্ঞান ভাণ্ডার। এমনকি একটি মারফু হাদীসে রয়েছে যে, কুরআন কারীমে যে গুপ্ত ধনের উল্লেখ আছে তা ছিল খাটি সোনার ফালি। তাতে লিখিত ছিলঃ “বিস্মিত হতে হয় ঐ ব্যক্তিকে দেখে যে তাকদীরকে বিশ্বাস করে, অথচ স্বীয় প্রাণকে পরিশ্রম ও কষ্টের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে এবং দুঃখ ও চিন্তার মধ্যে পড়ে থাকছে! আশ্চর্যের বিষয় যে, জাহান্নামের শাস্তির কথা স্বীকার করেও হাসি-তামাশার মধ্যে লিপ্ত হয়েছে! বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার যে, মৃত্যুকে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও গাফেল ও উদাসীনভাবে জীবন যাপন করছে।” ঐ ফালির উপর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।

মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সঃ) লিখিত ছিল। (এর একজন বর্ণনাকারী হলেন বাশর ইবনু মুনযির। কথিত আছে যে, তিনি মূসাইসিয়ার কাষী ছিলেন। তাঁর হাদীস সন্দেহজনক) পূর্ব যুগীয় গুরুজন হতেও এই ব্যাপারে কিছু হাদীস বর্ণিত আছে।হযরত হাসান বসীর (রঃ) বলেন যে, ওটা ছিল সোনার ফালি। তাতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ এর পরে প্রায় উপরে উল্লিখিত উপদেশাবলী লিখিত ছিল এবং শেষে কালেমায়ে তাইয়্যেবাহ লিপিবদ্ধ ছিল। জাফর ইবনু মুহাম্মদ (রঃ) বলেন যে, ঐ ফালিতে আড়াই লাইন লিখিত ছিল, পূর্ণ তিন লাইন নয় (শেষ পর্যন্ত)। বর্ণিত আছে যে, এই দুই ইয়াতীম তাদের সপ্তম পুরুষের পুণ্যের বরকতে রক্ষিত হয়েছিল।

যে মনীষীরা এই ব্যাখ্যা করেছেন তাদের এই তাফসীরও পূর্বের তাফসীরের বিপরীত নয়। কেননা, এতেও রয়েছে যে, এই জ্ঞান ও উপদেশপূর্ণ কথাগুলি সোনার ফালির উপর লিখিত ছিল আর এটা প্রকাশ্য কথা যে, সোনার ফালি নিজেই মাল এবং অতি মূল্যবান সম্পদ। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।এই আয়াত দ্বারা এটাও সাব্যস্ত হয় যে, মানুষের পুণ্যের কারণে তার সন্তান সন্ততিরাও দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর মেহেরবানী লাভ করে থাকে। এটা কুরআন ও হাদীসে পরিষ্কারভাবে বর্ণিত আছে। দেখা যায় যে, এই আয়াতে ঐ ইয়াতীম ছেলে দু’টির কোন প্রশংসা বর্ণনা করা হয় নাই, বরং তাদের পিতার সততা ও সৎকর্মশীলতার বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

আর এটা পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, পিতার বরকতের কারণে তাদের হিফাযত করা হয়েছিল। সে ছিল তাদের সপ্তম পুরুষ। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ'লাই সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। এ আয়াতে রয়েছেঃ “তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলেন এখানে ইচ্ছার সম্পর্ক আল্লাহ তাআলার সাথে স্থাপন করার কারণ এই যে, যৌবনে পৌঁছাতে আল্লাহ ছাড়া আর কেউই সক্ষম নয়। দেখা যায় যে, শিল্প ব্যাপারে ও নৌকার ব্যাপারে ইচ্ছার সম্পর্ক আল্লাহ তাআলা নিজের দিকে। লাগিয়েছেন। যেমন বলেছেনঃ (আরবী) (আমি ইচ্ছা করলাম) এবং (আরবী) (আমি ইচ্ছা করলাম)। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।অতঃপর হযরত খিয়র (আঃ) হযরত মূসাকে (আঃ) বললেনঃ “যে তিনটি ঘটনাকে আপনি বিপজ্জনক মনে করেছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে তা ছিল আল্লাহর রহমত। নৌকার মালিকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বটে। কিন্তু তা ত্রুটিযুক্ত করার ফলে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা পেয়েছে। শিশুটির হত্যার ফলে তার পিতা-মাতা সাময়িকভাবে দুঃখ পেলেও চিরদিনের দুঃখ ও আল্লাহর শাস্তি থেকে বেঁচে গেছে। এরপরে তারা সুসন্তান লাভ করেছে। আর দেয়াল ঠিক করে দেয়ার ফলে ঐ সৎকর্মশীল লোকটির সন্তানদ্বয়ের গুপ্তধন রক্ষিত হয়। এই কাজগুলি আমি আমার খেয়াল খুশীমত করি নাই বরং আল্লাহ তাআলার আদেশ পালন করেছি মাত্র। এর দ্বারা কেউ কেউ হযরত খিযরের নবুওয়াতের উপর দলীল গ্রহণ করেছেন। ইতিপূর্বে এর উপর পূর্ণভাবে আলোচনা সমালোচনা হয়ে গেছে।

কারো কারো মতে তিনি রাসূল ছিলেন। একটি উক্তি আছে যে, তিনি ফেরেশতা ছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ গুরুজনের মতে তিনি আল্লাহর ওয়ালী ছিলেন। ইমাম ইবনু কুতায়বা (রঃ) মাআরিফ' গ্রন্থে লিখেছেন যে, হযরত খিযুরের (আঃ) নাম ছিল বালিয়া ইবনু মালকান ইবনু ফালেগ, ইবনু আবির ইবনু শানিখ ইবনু আরফাখশাদ ইবনু সাম ইবনু নূহ (আঃ)। তাঁর কুনিয়াত (পিতৃ পদবীযুক্ত নমি) আবুল আব্বাস এবং উপাধী খিযুর (আঃ)। ইমাম নাওয়াতী (রঃ) তাহযীবুল আসমা গ্রন্থে লিখেছেন যে, হযরত খিয়র (আঃ) একজন শাহযাদা ছিলেন। তিনি (নাওয়াভী (রঃ)) এবং ইবনু সালাহ্ (রঃ) তো উক্তি করেছেন যে, তিনি এখন পর্যন্ত জীবিত আছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকবেন।

আর কোন কোন হাদীসেও এর উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ওগুলির একটিও বিশুদ্ধ নয়। এই ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী মাশহুর হলো ঐ হাদীসটি যাতে আছে যে, রাসূলুল্লাহর (সাঃ) প্রতি সমবেদনা প্রকাশের জন্যেই তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন। কিন্তু এর সনদও দুর্বল। অধিকাংশ মুহাদ্দিস এর বিপরীত মতপোষণ করেছেন এবং আজ পর্যন্ত হযরত খিযুরের (আঃ) জীবিত থাকাকেও স্বীকার করেন না। তাদের একটি দলীল হচ্ছে নিম্নের আয়াতটিঃ (আরবী) অর্থাৎ “(হে নবী (সঃ)) তোমার পূর্বে কাউকেও আমি চিরস্থায়ী জীবন। দান করি নাই।” (২১৪ ৩৪) আর একটি দলীল হলো বদরের যুদ্ধের দিন নবীর (সঃ) নিম্নরূপ প্রার্থনাঃ “হে আল্লাহ! যদি আমার জামাআতটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে যমীনে আপনার ইবাদত করার মত আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে ন্য।

” অন্য একটি দলীল এটাও যে, যদি হযরত খি (আঃ) জীবিত থাকতেন, তবে তিনি অবশ্যই রাসূলুল্লাহর (সঃ) খিদমতে হাযির হতেন এবং ইসলাম কবুল করতেন ও তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত হতেন। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সমস্ত দানব ও মানবের নিকট রাসূল রূপে প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি তো একথাও বলেছিলেনঃ “যদি আজ হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) জীবিত থাকতেন, তবে তাঁদেরও আমার আনুগত্য ছাড়া উপায় ছিল না। তিনি তার মৃত্যুর কিছু দিন পূর্বে বলেছিলেনঃ “এখন যারা দুনিয়ার বুকে রয়েছে, আজ থেকে নিয়ে একশ’ বছরের মধ্যে তাদের কেউই অবশিষ্ট থাকবে না। এ ছাড়া আরো বহু দলীল রয়েছে।মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, হযরত খিরকে (আঃ) খ্যির বলার কারণ এই যে, তিনি সাদা বর্ণের শুষ্ক ঘাসের উপর বসেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ওর নীচে থেকে সবুজ বর্ণের ঘাস উদগত হয়েছিল।

সম্বতঃ ভাবার্থ এই যে, তিনি শুষ্ক ঘাসের উপর বসেছিলেন, অতঃপর তা সবুজ বর্ণ ধারণ করেছিল। মোট কথা, হযরত খ্যির (আঃ) যখন হযরত মূসাকে (আঃ) প্রকৃত রহস্য ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেন এবং তার কাছে নিজের কাজের যোক্তিকতা বিশ্লেষণ করেন তখন বলেনঃ “এটাই ছিল গুপ্ত রহস্য যা উদঘাটন করানোর জন্যে আপনি তাড়াহুড়া করছিলেন।” পূর্বে হযরত মূসার (আঃ) আগ্রহ ও কাঠিন্য বেশী ছিল বলে মহান আল্লাহ (আরবী) শব্দ ব্যবহার করেছেন। তারপর হযরত খিয়র (আঃ) যখন রহস্য খুলে দিলেন তখন আর কাঠিন্য থাকলো না, কাজেই শব্দ নিয়ে আসলেন। এই সিফাত বা বিশেষণ নিম্নের আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “এর পর ইয়াজুজ ও মাজুজ ঐ প্রাচীর অতিক্রম করতে পারলো না, বা ভেদ করতেও পারলো না।

” ভেদ করার তুলনায় অতিক্রম করা সহজ বলে (আরবী) বা ভারীর মুকাবিলা ভারীর দ্বারা করা হয়েছে এবং (আরবী) বা হালকার মুকাবিলা করা হয়েছে হালকা দ্বারা। এইভাবে শাব্দিক ও মৌলিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে।হযরত মূসার (আঃ) সঙ্গীর আলোচনা ঘটনার শুরুতে ছিল। কিন্তু পরে আর তার আলোচনা করা হয়নি। কেননা, হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত খিরের (আঃ) ঘটনা বর্ণনা করাই উদ্দেশ্য। হাদীসে আছে যে, হযরত মূসার (আঃ) এই সাথী ছিলেন হযরত ইউশা ইবনু নূন (আঃ)। তাঁকেই হযরত মূসার (আঃ) পরে বাণী ইসরাঈলের ওয়ালী বানানো হয়েছিল। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, তিনি আবে হায়াত পান করে ছিলেন।

এজন্যে তাকে একটি নৌকায় বসিয়ে দিয়ে সমুদ্রের মধ্যভাগে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। ঐ নৌকাটি এভাবেই চিরদিনের জন্যে সমুদ্রের তরঙ্গের মধ্যে চলতে রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। এটা খুবই দুর্বল উক্তি। কেননা এই ঘটনার বর্ণনাকারীদের মধ্যে একজন রয়েছেন হাসান নামক ব্যক্তি। তার বর্ণনা পরিত্যাজ্য। দ্বিতীয় বর্ণনাকারী হলেন তাঁর পিতা, যিনি অপরিচিত। সনদ হিসেবেও এ ঘটনা ঠিক নয়।

Tafsir in other languages · 7