হিরায় প্রথম ওহি এবং খাদিজার সান্ত্বনার বর্ণনা আছে।
তথ্যসূত্র · ১
- সহিহ বুখারি · 3 · হিরায় প্রথম ওহি এবং খাদিজার সান্ত্বনার বর্ণনা আছে।
মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল ও শেষ নবী। তাঁর দাওয়াত সমগ্র মানবজাতির জন্য এবং তাঁকে জগতসমূহের রহমত হিসেবে প্রেরণের কথা কুরআনে আছে।
মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল ও শেষ নবী। তাঁর দাওয়াত সমগ্র মানবজাতির জন্য এবং তাঁকে জগতসমূহের রহমত হিসেবে প্রেরণের কথা কুরআনে আছে।
তিনি মক্কার কুরাইশের বনু হাশিম বংশে জন্মগ্রহণ করেন। নবুওয়াতের পরিচয়ে তাওহিদ, কুরআন পৌঁছে দেওয়া, চরিত্রের শিক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের দায়িত্ব যুক্ত। কুরআন তাঁকে মহান চরিত্রের অধিকারী ও অনুসরণীয় আদর্শ বলে।
কুরআনে মুহাম্মদ নামটি চার স্থানে এবং আহমদ নামটি ঈসার সুসংবাদের মধ্যে এসেছে। আবুল কাসিম তাঁর কুনিয়া। তাঁর নবুওয়াতের ধারাবাহিকতা ইসমাইলের বংশসূত্র ও পূর্ববর্তী নবীদের সত্যতা সমর্থনের সঙ্গে যুক্ত। শেষ নবী হওয়ার পরিচয় ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের দাবির চেয়ে ওহির ধারার সমাপ্তি ও তাঁর বার্তার স্থায়ী অনুসরণের অর্থ বহন করে।
তাঁর জন্ম আনুমানিক ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায়, আর ইন্তেকাল ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায়। জন্মসালের রূপান্তরে ৫৭১-ও বলা হয়।
সহিহ হাদিসে চল্লিশ বছরে ওহি পাওয়া, মক্কায় তেরো বছর দাওয়াত এবং হিজরতের পরে দশ বছর মদিনায় থাকার বর্ণনা আছে। সোমবারের সঙ্গে জন্ম ও ওহি লাভের সম্পর্কও এসেছে। নির্দিষ্ট জন্মদিন নিয়ে মতভেদের কারণে একটি দিনকে সর্বসম্মত বলা হয়নি।
তিনি এক আল্লাহর ইবাদত, আখিরাতের জবাবদিহি এবং মানবজীবনের নৈতিক সংশোধনের আহ্বান জানান।
কুরআন তাঁর দায়িত্বে আয়াত পাঠ, মানুষকে পরিশুদ্ধ করা এবং কিতাব ও হিকমত শেখানোর কথা বলে। ন্যায়বিচার, আত্মীয়ের অধিকার, দুর্বলদের সুরক্ষা ও অনৈতিকতা ত্যাগ তাঁর বার্তার অংশ। তাঁর দায়িত্ব কেবল আরব জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
তাঁর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব পর্যায়ে প্রয়োগ পেয়েছে। নামায ও ইবাদতের সঙ্গে আমানত, সদাচরণ, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার যুক্ত। আয়িশার বর্ণনায় তিনি ঘরে পরিবারের কাজে সহায়তা করতেন এবং নামাযের ডাক হলে বের হতেন। ফলে অনুসরণীয় আদর্শের পরিচয় জনসমক্ষে নেতৃত্বের পাশাপাশি দৈনন্দিন পারিবারিক আচরণেও পাওয়া যায়।
পিতা আবদুল্লাহ এবং মাতা আমিনা বিনতে ওয়াহব। দাদা আবদুল মুত্তালিব; বনু হাশিম তাঁর বংশপরিচয়।
সীরাতের প্রসিদ্ধ বর্ণনায় সাত সন্তান—কাসিম, আবদুল্লাহ, ইব্রাহিম, যাইনাব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম ও ফাতিমা। ইব্রাহিম ছাড়া অন্যরা খাদিজার সন্তান; ইব্রাহিমের মা মারিয়া আল-কিবতিয়্যা। কুনিয়া আবুল কাসিম তাঁর পুত্রের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রসিদ্ধ সীরাত অনুযায়ী তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে খাদিজা, সাওদা, আয়িশা, হাফসা, যাইনাব বিনতে খুযাইমা, উম্মে সালামা, যাইনাব বিনতে জাহশ, জুওয়াইরিয়া, উম্মে হাবিবা, সাফিয়্যা ও মাইমুনা রয়েছেন। কুরআনে তাঁর স্ত্রীদের মুমিনদের মা বলা হয়েছে। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষা এবং হাদিস বর্ণনায় ভূমিকা নবীপরিবারের পরিচয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ নবী হওয়া, কুরআনপ্রাপ্তি এবং সর্বজনীন দাওয়াত তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ইসরা-মিরাজ, চাঁদ বিদীর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গ এবং বিভিন্ন সহিহ হাদিসে নিদর্শনের বর্ণনা আছে। তবে তাঁর মর্যাদা আল্লাহর রাসুল ও বান্দা হিসেবে; তাঁকে আল্লাহর অংশ বা স্বাধীন অদৃশ্যজ্ঞ বলা হয়নি। শাফাআতের বর্ণনায়ও তাঁর প্রার্থনা ও আল্লাহর অনুমতির সম্পর্ক রয়েছে।
কুরআন তাঁর ওপর অবতীর্ণ কিতাব। জিবরীলের মাধ্যমে আরবি ভাষায় ওহি পৌঁছানোর কথা কুরআনে আছে।
সহিহ বুখারিতে হিরার প্রথম ওহি, পড়ার নির্দেশ এবং খাদিজার সান্ত্বনার বিবরণ পাওয়া যায়। ওহি পর্যায়ক্রমে আসে; তাঁর বক্তব্য ও কর্মের মাধ্যমে ব্যাখ্যা ও বাস্তব অনুসরণের শিক্ষা সুন্নাহয় সংরক্ষিত। কুরআন ও হাদিসের পাঠকে আলাদা উৎসরূপে রাখা হয়েছে।
মক্কায় শৈশব ও পারিবারিক জীবন, প্রথম ওহি, বিরোধিতার মধ্যে দাওয়াত এবং মদিনায় হিজরত তাঁর জীবনের প্রধান পর্ব।
মদিনায় ইবাদতকেন্দ্র ও সমাজ গঠন, চুক্তি, সংঘাত এবং পরবর্তী মক্কায় প্রত্যাবর্তন আসে। বদর, উহুদ, খন্দক, হুদাইবিয়া, মক্কা বিজয় ও বিদায় হজ সীরাতের বড় মাইলফলক; এগুলো ব্যক্তিজীবন, জননেতৃত্ব ও নবুওয়াতের দায়িত্বের বিভিন্ন দিক।
হুদাইবিয়ার বর্ণনায় চুক্তির শর্ত মেনে চলা ও বিরোধীদের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের পরিচয় আছে। বিদায় হজে ইবাদতের বাস্তব শিক্ষা এবং মানুষের জীবন-সম্পদ ও পারিবারিক অধিকারের বক্তব্য এসেছে। এই সূত্রগুলো তাঁর প্রোফাইলে সামরিক ঘটনার বাইরেও চুক্তি, জনশিক্ষা ও নৈতিক নেতৃত্বের পরিচয় যোগ করে।
তিনি ১১ হিজরিতে, ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। সহিহ বুখারির বর্ণনায় মৃত্যুকালে তেষট্টি বছর বয়স এসেছে।
এই বয়স হিজরি-চান্দ্র বছরভিত্তিক বর্ণনার সঙ্গে পড়তে হয়; আনুমানিক সৌর জন্মসাল থেকে সরল বিয়োগ করে বিরোধ তৈরি করা যথাযথ নয়। তাঁকে আয়িশার কক্ষে দাফন করা হয়। তাঁর বাণী, শিক্ষা ও অনুসরণের পরম্পরা সাহাবিদের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছে।
পরিচয়, দায়িত্ব ও জীবনসংক্রান্ত প্রধান কুরআনিক সূত্রগুলো বিষয় অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
পরিচয় ও নবুওয়াতে অবস্থান — আল-আহযাব ৩৩:৪০; আল-আরাফ ৭:১৫৮; আল-আম্বিয়া ২১:১০৭; আল-কালাম ৬৮:৪; আল-আহযাব ৩৩:২১; আস-সাফ ৬১:৬.
নবুওয়াতের দায়িত্ব ও দাওয়াত — আল-আরাফ ৭:১৫৮; আল-জুমুআ ৬২:২; আন-নাহল ১৬:৯০; আল-আহযাব ৩৩:৪৫–৪৬; আল-আহযাব ৩৩:২১; আল-কালাম ৬৮:৪.
পরিবার ও বংশপরিচয় — আল-আহযাব ৩৩:৬.
বিশেষ মর্যাদা ও নিদর্শন — আল-আহযাব ৩৩:৪০; আল-আম্বিয়া ২১:১০৭; আল-ইসরা ১৭:১; আল-কামার ৫৪:১–২.
ওহি, কিতাব ও শিক্ষা — আল-আলাক ৯৬:১–৫; আশ-শুআরা ২৬:১৯২–১৯৫; আন-নাহল ১৬:৪৪; আল-হিজর ১৫:৯.
জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় — আল-ফাতহ ৪৮:১–৩; আন-নাসর ১১০:১–৩.
সংশ্লিষ্ট হাদিসের সারাংশ ও গ্রন্থ-নম্বর।
হিরায় প্রথম ওহি এবং খাদিজার সান্ত্বনার বর্ণনা আছে। — সহিহ বুখারি ৩.
চল্লিশে ওহি, মক্কায় তেরো বছর, মদিনায় দশ বছর এবং তেষট্টিতে মৃত্যুর বর্ণনা আছে। — সহিহ বুখারি ৩৯০২.
সোমবারের সঙ্গে জন্ম ও ওহি লাভের সম্পর্ক এসেছে। — সহিহ মুসলিম ১১৬২e.
ইসমাইলের বংশধারায় কিনানা, কুরাইশ ও বনু হাশিম থেকে মনোনয়নের কথা আছে। — সহিহ মুসলিম ২২৭৬.
পুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুতে তাঁর মমতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টিকর বক্তব্যের বর্ণনা আছে। — সহিহ মুসলিম ২৩১৫.
মিরাজে পূর্ববর্তী নবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও নামাযের বিধান এসেছে। — সহিহ মুসলিম ১৬২a.
তিনি পরিবারের কাজে সহায়তা করতেন এবং নামাযের সময় বের হতেন। — সহিহ বুখারি ৫৩৬৩.
হিরায় প্রথম ওহি এবং খাদিজার সান্ত্বনার বর্ণনা আছে।
চল্লিশে ওহি, মক্কায় তেরো বছর, মদিনায় দশ বছর এবং তেষট্টিতে মৃত্যুর বর্ণনা আছে।
সোমবারের সঙ্গে জন্ম ও ওহি লাভের সম্পর্ক এসেছে।
ইসমাইলের বংশধারায় কিনানা, কুরাইশ ও বনু হাশিম থেকে মনোনয়নের কথা আছে।
পুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুতে তাঁর মমতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টিকর বক্তব্যের বর্ণনা আছে।
মিরাজে পূর্ববর্তী নবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও নামাযের বিধান এসেছে।
তিনি পরিবারের কাজে সহায়তা করতেন এবং নামাযের সময় বের হতেন।
হুদাইবিয়া-সম্পর্কিত চুক্তি ও পরবর্তী উমরার শর্তের বর্ণনা আছে।
বিদায় হজের ইবাদত ও নির্দেশনার বিস্তারিত বর্ণনা আছে।