এই আয়াতের তাফসীর

সূরা ১০ : আয়াত ১০৭

সূরা ১০ : আয়াত ১০৭

وَإِن يَمْسَسْكَ ٱللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُۥٓ إِلَّا هُوَ ۖ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَآدَّ لِفَضْلِهِۦ ۚ يُصِيبُ بِهِۦ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ ۚ وَهُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

‘আর (হে রাসূল!) আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো ক্ষতির স্পর্শ করান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহের কোনো প্রতিরোধকারী নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।‘

তাফসীর ইবনে কাসীর

১০৪-১০৭ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল মুহাম্মাদ (সঃ)-কে বলেনঃ তুমি বলে দাও-- হে লোক সকল! আমি যে দ্বীনে হানীফ (একনিষ্ঠ ধর্ম) নিয়ে এসেছি, যার অহী আমার উপর অবতীর্ণ হয়েছে, যদি এর সঠিকতা ও সত্যতার ব্যাপারে তোমাদের সন্দেহ হয়ে থাকে তবে জেনে রেখো যে, আমি তোমাদের উপাস্যদের কখনো উপাসনা করবো না। আমি এক ও অংশীবিহীন আল্লাহরই বান্দা, যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটিয়ে থাকেন এবং যিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। নিঃসন্দেহে তোমাদের সকলকেই তারই নিকট ফিরে যেতে হবে। আচ্ছা, যদি ধরে নেয়া হয় যে, তোমাদের মা’রূদ সত্য, তবে তাদেরকে আমার কোন ক্ষতি করতে বলতো? জেনে রেখো যে, তাদের কারো লাভ বা ক্ষতি করার কোনই ক্ষমতা নেই।

লাভ ও ক্ষতি করার হাত তো শরীকবিহীন আল্লাহর। হে নবী (সঃ)! তুমি কাফিরদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর ইবাদতে লেগে যাও। শিরকের দিকে একটুও ঝুঁকে পড়ো না। যদি আল্লাহ তোমাকে ক্ষতির মধ্যে পরিবেষ্টন করেন, তবে কে এমন আছে যে, তোমাকে তা থেকে বের করতে পারে? লাভ ও ক্ষতি, কল্যাণ ও অকল্যাণ তো তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা সারা জীবন কল্যাণ অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহর নিয়ামতসমূহ কামনা কর। আল্লাহর করুণার হাওয়া যে সৌভাগ্যবানকে স্পর্শ করেছে সে ভাগ্যবান। বটে। তিনি যাকে চান তার উপর নিজের করুণা বর্ষণ করেন।

আল্লাহ পাকের নিকট প্রার্থনা কর যে, তিনি যেন তোমাদের দোষত্রুটি গোপন রাখেন এবং তোমাদেরকে যুগের বিপদাপদ এবং নফসের বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা দান করেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তোমাদের যত বড়ই পাপ হাক না কেন, যদি তাওবা করে নাও, তবে তিনি তা ক্ষমা করে দেবেন। এমন কি শিরক করেও যদি তাওবা কর, তবে তাও তিনি ক্ষমা করবেন।

অন্য ভাষার তাফসীর · ৭