এই আয়াতের তাফসীর

সূরা ১১ : আয়াত ৭

সূরা ১১ : আয়াত ৭

وَهُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ فِى سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُۥ عَلَى ٱلْمَآءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۗ وَلَئِن قُلْتَ إِنَّكُم مَّبْعُوثُونَ مِنۢ بَعْدِ ٱلْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِنْ هَـٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ

আর তিনিই ছয় দিনে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন । আর (এদু’টি সৃষ্টির পূর্বে) তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর, (হে মানবজাতি!) যাতে তিনি তোমাদের মধ্যে কে আমলে সর্বোত্তম, তা পরীক্ষা করেন। আর (রাসূল!) তুমি যদি বলো: ‘নিশ্চয়ই তোমাদেরকে মৃত্যুর পর (হিসাবের জন্য) পুনরুত্থিত করা হবে’, তবে কাফিররা অবশ্যই বলবে: ‘এতো সুস্পষ্ট যাদু।’

তাফসীর আহসানুল বায়ান

আর তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে ছ দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং সেই সময় তাঁর আরশ পানির উপরে ছিল;[১] যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করে নেন, তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম কে?[২] আর যদি তুমি বল, ‘নিশ্চয়ই তোমাদেরকে মৃত্যুর পর জীবিত করা হবে’, তাহলে যারা অবিশ্বাসী তারা অবশ্যই বলবে, ‘এটা তো সুস্পষ্ট যাদু।’

[১] এ কথাই সহীহ হাদীসেও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এক হাদীসে পাওয়া যায় যে, "আল্লাহ তাআলা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে, সমস্ত মাখলুকাতের ভাগ্য লিখেছেন। আর সেই সময় তাঁর আরশ পানির উপর ছিল।" (বুখারী ও মুসলিম)

[২] অথবা কে উত্তম কর্ম করে? অর্থাৎ এই আকাশ ও পৃথিবী শুধু শুধু বেকার ও বিনা উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেননি; বরং তার পশ্চাতে উদ্দেশ্য হল, মানুষ ও জীন জাতিকে পরীক্ষা করা যে, তাদের মধ্যে কে সৎকর্ম করছে?

বিঃদ্রঃ- আল্লাহ তাআলা এখানে এই কথা বলেননি যে, কে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আমল করে; বরং এই কথা বলেছেন যে, কে সবচেয়ে বেশি ভালো আমল করে। কারণ ভালো, উত্তম বা নেক আমল হল তা, যা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হবে এবং সুন্নত (নবী (সাঃ) এর তরীকা) অনুযায়ী হবে। যদি কোন আমলে এই দুই শর্তের মধ্যে কোন একটি শর্ত পাওয়া না যায়, তবে তা নেক আমল নয়, তাতে তা পরিমাণে যতই বেশি হোক। আল্লাহর নিকট সেই আমলের কোন মর্যাদা নেই।

অন্য ভাষার তাফসীর · ৭