এই আয়াতের তাফসীর

সূরা ২৮ : আয়াত ৮৫

সূরা ২৮ : আয়াত ৮৫

إِنَّ ٱلَّذِى فَرَضَ عَلَيْكَ ٱلْقُرْءَانَ لَرَآدُّكَ إِلَىٰ مَعَادٍ ۚ قُل رَّبِّىٓ أَعْلَمُ مَن جَآءَ بِٱلْهُدَىٰ وَمَنْ هُوَ فِى ضَلَـٰلٍ مُّبِينٍ

(হে নবী!) নিশ্চয় যিনি তোমার ওপর আল কুরআনকে বিধানস্বরূপ নিশ্চয় যিনি তোমার ওপর কুরআন (পৌঁছানো ও তার ওপর আমল করা) ফরজ করেছেন, তিনি অবশ্যই তোমাকে প্রত্যাবর্তনের স্থানে ফিরিয়ে নেবেন।(১২) বলো, ‘আমার রবই ভালো জানেন, কে হিদায়াত নিয়ে এসেছে এবং কে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছে।’

তাফসীর আহসানুল বায়ান

যিনি তোমার জন্য কুরআন (অবতীর্ণ) অপরিহার্য করেছেন[১] তিনি তোমাকে অবশ্যই স্বদেশে ফিরিয়ে আনবেন।[২] বল, ‘আমার প্রতিপালক ভাল জানেন কে সৎপথের নির্দেশ এনেছে এবং কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে।’ [৩]

[১] অথবা তার তিলাঅত ও প্রচার তোমার উপর আবশ্যিক করেছেন।

[২] অর্থাৎ, তোমার জন্মস্থান মক্কায় ফিরিয়ে আনবেন, যেখান হতে তুমি বের হতে বাধ্য হয়েছিলে। সহীহ বুখারীতে ইবনে আববাস (রাঃ) হতে এই ব্যাখ্যাই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং হিজরতের আট বছর পর আল্লাহর উক্ত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছিল। তিনি অষ্টম হিজরীতে বিজয়ীর বেশে মক্কায় দ্বিতীয়বার প্রবেশ করেন। কেউ কেউ مَعَاد এর অর্থ কিয়ামত নিয়েছেন। অর্থাৎ, কিয়ামত দিবসে তিনি তাঁর নিকটে তোমাকে ফিরিয়ে আনবেন এবং রিসালাত ও কুরআন প্রচারের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।

[৩] মুশরিকরা নবী (সাঃ)-কে পূর্ব-পুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করার জন্য পথভ্রষ্ট মনে করত। তারই উত্তর এই বাক্যে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, আমার প্রভু খুব ভাল জানেন যে, পথভ্রষ্ট আমি, যে আল্লাহর নিকট হতে সুপথ নিয়ে এসেছে, নাকি তোমরা, যারা আল্লাহ প্রদত্ত সুপথ গ্রহণ কর না।

অন্য ভাষার তাফসীর · ৭